অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “তরুণরা সংখ্যায় বেশি এবং তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত জানানোর সুযোগ দিতে ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”
শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী “জাতীয় সংলাপ-২০২৪”-এর উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রদত্ত ভাষণে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, “এক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন কাজ করছে। বিভিন্ন দেশে ভোটার হওয়ার বয়স ভিন্ন ভিন্ন হলেও, আমি মনে করি তরুণদের তাড়াতাড়ি ভোটার করা উচিত। পরিবর্তনের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি, আর এজন্য ১৭ বছর বয়সেই তাদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন সংস্কার কমিশন কী ধরনের সুপারিশ করবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে, দেশের অধিকাংশ মানুষ যদি কমিশনের সুপারিশকৃত বয়স নিয়ে একমত হয়, আমিও তা মেনে নেব।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “সংস্কারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর এসেছে। এই দায়িত্ব পালন করতে হবে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক, এবং ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। সংস্কার কাজ একটি মহাযজ্ঞ, যা আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।”
ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী করেছে। গত পাঁচ মাসে এই ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। বিরুদ্ধ শক্তির অপচেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের ঐক্য অটুট রয়েছে।”
তিনি যোগ করেন, “এখনই আমাদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ। এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য থাকবে না। এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু পরিচিতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। আমাদের একটিই পরিচয় থাকবে: আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, এবং রাষ্ট্র আমাদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য।”
